মঙ্গলবার সকালের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই উত্তপ্ত করে তোলে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ মাজার এলাকা। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আকরাম নামের এক দরজি। তবে ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি—এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় জনতা, অবরোধ করে মহাসড়ক, আগুন ধরিয়ে দেয় দুটি ডাম্প ট্রাকে।
সকালটা যেভাবে বদলে গেল
সকাল প্রায় সাতটা। নাশতা শেষ করে প্রতিদিনের মতো রাস্তা পার হচ্ছিলেন আকরাম। হঠাৎই একটি বালুবাহী ডাম্প ট্রাক তাকে চাপা দেয় এবং অনেকটা পথ টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই মানুষটি পেশায় একজন দরজি ছিলেন। বিড়ালদহ মাজারের কাছেই ছিল তার ছোট্ট টেইলার্সের দোকান। বয়স আনুমানিক ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। এক মুহূর্তেই সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ায় এলাকায় নেমে আসে শোক আর ক্ষোভের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ক্ষোভ যখন আগুন হয়ে উঠল
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা দায়ী ট্রাকটিকে আটকে ফেলে এবং পাশের আরেকটি ডাম্প ট্রাকসহ দুটিতেই আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অচল হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করা লোকজনের ওপর চড়াও হয়। কয়েকটি মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়, এমনকি আগুনেও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এক সাংবাদিকও এই রোষের শিকার হন।
পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা, পরে নিয়ন্ত্রণ
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রথমে তাদেরও বাধার মুখে পড়তে হয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপরও ক্ষোভ দেখায়। তবে পরে আলোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। স্থানীয়দের দাবি ছিল পরিষ্কার—দিনের বেলায় এই এলাকায় ডাম্প ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং দ্রুত স্পিডব্রেকার বসাতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে এসব দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হলে ধীরে ধীরে উত্তেজনা কমে আসে। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও শুরুতে জনতার উত্তেজনার কারণে তাদের কাজ শুরু করতেও কিছুটা সময় লাগে।
একই প্রশ্ন আবারও সামনে
এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, সড়ক নিরাপত্তা এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ। জনবহুল এলাকায় ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যে কতটা বিপজ্জনক, তা নতুন করে প্রমাণিত হলো। স্থানীয়দের অভিযোগ—দিনের বেলাতেও বালুবাহী ট্রাক চলাচল এখানে স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, অথচ নেই পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শেষ কথা
একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি পুরো সমাজের জন্য সতর্কবার্তা। দুর্ঘটনার পর জনতার ক্ষোভ বোঝা গেলেও সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এখন প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ—যেন সড়কগুলো নিরাপদ হয়, নিয়মগুলো কার্যকর হয়, এবং আর কোনো আকরামের জীবন এভাবে সড়কে শেষ না হয়।


