ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী এই বাস্তবতা অস্বীকারের নয়
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের বাস্তব চিত্র। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী—ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সব দিক থেকেই। এই স্বীকারোক্তির মধ্যেই লুকিয়ে আছে সম্পর্কের গভীরতা, কারণ প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের ভূমিকা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলবেই। তবে এই বক্তব্য কেবল সৌজন্যমূলক নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাস্তবতার স্বচ্ছ উচ্চারণ।
বন্ধুত্ব বজায় রেখেই স্বার্থের প্রশ্নে চোখে চোখ রেখে কথা
রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক ভাষা। তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইচ্ছা প্রকাশের পাশাপাশি এটিও পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে বাংলাদেশের মর্যাদা ও স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপসের জায়গা নেই। এই অবস্থান আসলে একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে, যে রাষ্ট্র সহযোগিতা চায়, কিন্তু নির্ভরশীলতা নয়। এটি আবেগের চেয়ে বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে সম্পর্ক পরিচালনার ইঙ্গিত দেয়।
ইতিহাসের বন্ধন আর বর্তমানের জটিলতা একসঙ্গে চলার বাস্তবতা
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের পেছনে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন ইস্যু সামনে এসেছে—নদীর পানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ঘাটতি কিংবা আঞ্চলিক রাজনীতির চাপ। এই সবকিছু মিলিয়ে সম্পর্কটি এখন আর সরল নয়, বরং বহুস্তর ও সংবেদনশীল। তাই বর্তমান নেতৃত্বের কণ্ঠে বাস্তববাদী সুর শোনা যাচ্ছে।
পররাষ্ট্রনীতিতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের বার্তা
এই বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্যত জানিয়ে দিয়েছে যে তারা আর নীরব পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় থাকতে চায় না। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের গুরুত্ব স্বীকার করেও বাংলাদেশ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে প্রস্তুত। এটি কোনো বিরোধিতার ঘোষণা নয়, বরং সমতার ভিত্তিতে আলোচনার দাবি। মানবিক, বাস্তব ও কূটনৈতিক—এই তিনের সমন্বয়েই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এগোবে, এমন ইঙ্গিতই মিলছে।
ভবিষ্যতের পথে সম্পর্ক থাকবে বন্ধুত্বপূর্ণ কিন্তু শর্তহীন নয়
সবশেষে বলা যায়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বের পথেই থাকবে, তবে সেটি হবে আরও সচেতন ও স্বার্থনির্ভর। রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য আসলে একটি পরিণত রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর—যে রাষ্ট্র জানে কবে সহযোগিতা করতে হয়, আর কবে দৃঢ় হয়ে নিজের কথা বলতে হয়। এই নতুন কূটনৈতিক সুরই হয়তো আগামী দিনে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের দিকনির্দেশনা ঠিক করবে।


