দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মানচিত্রে নতুন এক বার্তার আভাস মিলছে সংস্কৃতির মঞ্চ থেকে। তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অধীনে যখন ঢাকা ও নয়াদিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ খুঁজছে, ঠিক তখনই সামনে এসেছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ মেঘালয় সফরে গিয়ে ভারতের খ্যাতনামা সংগীত দল Shillong Chamber Choir-এর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সীমান্ত-পার কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতীকী হলেও তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।
মেঘালয় সফর থেকে হঠাৎ জন্ম নেওয়া পরিকল্পনা
মেঘালয়ে অবস্থানকালে হাইকমিশনার কয়ারটির প্রধান কণ্ঠশিল্পী William Basaiawmoit-এর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং তাদের ২৫ বছরের আন্তর্জাতিক যাত্রা, ভারতের প্রতিনিধিত্ব ও বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন; সেই আলাপচারিতার এক পর্যায়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশে কয়ারটির একটি বিশেষ পরিবেশনার প্রস্তাব উঠে আসে, যা ভারত–বাংলাদেশ বন্ধুত্ব ও যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপনের অংশ হতে পারে।
কেন এই আমন্ত্রণ এখন এত গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর হলেও সাম্প্রতিক সময়ের নানা ইস্যুতে সম্পর্কের উষ্ণতায় কিছুটা ভাটা পড়েছিল, আর সেই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানোর এই উদ্যোগকে অনেকেই সফট-ডিপ্লোমেসির কৌশলগত প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন; কারণ সংগীত এমন একটি মাধ্যম, যা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা কূটনৈতিক বৈঠকের চেয়ে দ্রুত মানুষের আবেগে পৌঁছাতে পারে এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে।
আন্তর্জাতিক পরিচিতির কয়ার, আঞ্চলিক বার্তার সম্ভাবনা
Shillong Chamber Choir পশ্চিমা ধ্রুপদি সঙ্গীত ও ভারতীয় সংগীতধারার মিশেলে নিজস্ব ধারা তৈরি করে জাতীয় পরিচিতি পায় জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো India’s Got Talent জয় করার মাধ্যমে, পাশাপাশি ২০১০ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর উপস্থিতিতে পরিবেশনা করে আন্তর্জাতিক মর্যাদাও অর্জন করে; ফলে তাদের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং আঞ্চলিক সম্প্রীতির প্রতীকী বার্তা হয়ে উঠতে পারে।
সুর কি পারে সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে
একটি কনসার্ট সরাসরি নীতিগত জটিলতা দূর করতে না পারলেও এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে সক্ষম, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে যারা সীমান্তের রাজনীতির চেয়ে সাংস্কৃতিক সংযোগকে বেশি গুরুত্ব দেয়; তাই এই আমন্ত্রণ বাস্তবায়িত হলে তা হবে ঢাকার পক্ষ থেকে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু শক্তিশালী সংকেত—বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে আগ্রহী, আর সেই পথের প্রথম ধাপ হতে পারে একটি মঞ্চ, কিছু কণ্ঠ এবং সুরের বন্ধন।


