বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন দিনের মাথায় বাংলাদেশ–ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেল। প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশন পুনরায় ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম চালু করেছে। শুক্রবার থেকে সেখানে ভিসা প্রদান শুরু হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়। একই সময়ে ভারতের পক্ষ থেকেও ঘোষণা আসে যে তারা ‘শিগগিরই’ বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করবে। এই সমান্তরাল বার্তা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত বহন করে।
উত্তেজনার পটভূমি ও ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে গত ডিসেম্বরে দুই দেশের সম্পর্ক হঠাৎ করেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস ও ছায়ানট ভবনে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ এবং মিশনে ঢিল নিক্ষেপের ঘটনা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রশ্ন তোলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কার্যক্রম ২১ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয় এবং দুই দেশই কার্যত ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ রাখে।
রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন
নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দ্রুত পরিবর্তন আসে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত স্পষ্ট হতে থাকে। ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়া সেই পরিবর্তনের দৃশ্যমান ফল। এটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের একটি সূচনাপর্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থনীতি, মানুষ ও আঞ্চলিক বাস্তবতা
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়; এটি অর্থনৈতিক ও মানবিক যোগাযোগের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটনের প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াতের উপর ভিসা স্থগিতের প্রভাব পড়েছিল। এখন কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় সেই স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের স্থিতিশীল সম্পর্ক আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের সূচনালগ্নেই কূটনৈতিক অগ্রগতি একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও সংলাপ ও সমঝোতার পথ এখনও উন্মুক্ত। এখন নজর থাকবে, এই ইতিবাচক গতি কতটা ধারাবাহিক ও স্থায়ী রূপ পায়।


