বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া আজকের ভূমিকম্প কলকাতা ও আশপাশে তীব্র কম্পন তৈরি করেছে। কম্পন ছিল স্বল্প সময়ের, তবে এর প্রভাব মানুষের মনে তীব্র ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। ভূমিকম্পটি উৎপত্তি হয়েছে বাংলাদেশের ভূগর্ভে থাকা সক্রিয় ফল্ট লাইনে, যা দীর্ঘদিন ধরেই ভূতাত্ত্বিকভাবে অস্থিতিশীল বলে বিবেচিত। সম্প্রতি বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে ভূমিকম্পের ঘটনাকে মিলিয়ে সাধারণ মানুষ মজা করে বলছেন—হাসিনার দেশ আবারও খবরের শিরোনামে। তবে এই ঘটনা আসলে পূর্ব ভারতের সিসমিক ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবনার সময় এনে দিয়েছে।
ভূমিকম্পের ভূগর্ভীয় কারণ ও বাংলাদেশের সিসমিক সক্রিয়তা
বাংলাদেশের উত্তর–পূর্ব অঞ্চলের সক্রিয় ফল্ট লাইন বছরের পর বছর ধরে ভূমিকম্পপ্রবণ বলে চিহ্নিত হয়ে আছে। আজকের ভূমিকম্পটি ছিল তুলনামূলকভাবে কম গভীরতায়, যার ফলে এর কম্পন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সীমান্ত পেরিয়ে কলকাতাতেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
কলকাতায় কম্পন অনুভবের মুহূর্তের অভিজ্ঞতা
কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষ হঠাৎ করে চেয়ার, টেবিল বা ঘরের সামগ্রী কেঁপে ওঠায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে নিরাপত্তার জন্য বাইরে বেরিয়ে আসেন, আবার কেউ কেউ প্রথমে বিষয়টি মাথা ঘোরা হিসেবে ভুল বুঝেছিলেন। যদিও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনো পাওয়া যায়নি, তবে সেই মুহূর্তটি শহরবাসীর মনে স্নায়ুচাপ তৈরি করেছে।
কেন কলকাতা ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শহর
কলকাতা ভূগর্ভীয়ভাবে একটি মাঝারি ঝুঁকির ভূমিকম্প জোনে অবস্থান করছে এবং বাংলাদেশের ফল্ট লাইন এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। শহরের পুরনো স্থাপনা, নরম দোআঁশ মাটি, এবং ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ ভূমিকম্পের সময় ক্ষতির সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ভবিষ্যতে আরও হতে পারে।
শহরবাসী ও প্রশাসনের প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন আলোচনা
আজকের কম্পন তেমন ক্ষতি না করলেও এটি সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ভবন নির্মাণের মান নিয়ন্ত্রণ, পুরনো ভবনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন, এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসে নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া—এসব প্রস্তুতি ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
উপসংহার
বাংলাদেশে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্প আবারও প্রমাণ করল—ভূমিকম্প সীমান্ত চেনে না। রাজনৈতিক আলোচনায় হোক বা প্রাকৃতিক ঘটনায়, হাসিনার দেশ বারবার খবরের শিরোনাম দখল করলেও কলকাতার মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহরের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজন বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা, সচেতনতা এবং প্রস্তুতি।


