দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, উত্তাল আন্দোলন এবং অনিশ্চয়তার অধ্যায় পেরিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে ঘটেছে এক নাটকীয় পালাবদল। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। একই দিনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের মাধ্যমে কার্যত শুরু হলো নতুন সরকারের যাত্রা। অনেকের কাছে এটি কেবল সরকার পরিবর্তন নয়—বরং একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন।
নির্বাচনের রায়ে বদলের স্পষ্ট সংকেত
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, জনগণের বড় একটি অংশ স্থিতিশীলতা ও বিকল্প নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ছিল দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, প্রত্যাশা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ।
শপথের মঞ্চে নতুন প্রতিশ্রুতি
নতুন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান ছিল প্রতীকী এবং তাৎপর্যপূর্ণ। সংবিধান রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই শপথ অনুষ্ঠান দেশের মানুষের মধ্যে একধরনের প্রত্যাশা ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে—এই নেতৃত্ব কি সত্যিই নতুন দিশা দেখাতে পারবে?
সামনে কঠিন বাস্তবতা
তবে রাজনৈতিক নাটকীয়তা যতই থাকুক, বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ কম নয়। অর্থনৈতিক চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এখন সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা হবে সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ক্ষমতায় ফেরা যতটা কঠিন ছিল, তা ধরে রাখা ও সফলভাবে পরিচালনা করা তার চেয়েও কঠিন।
আন্তর্জাতিক নজর এখন ঢাকায়
বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ তৈরি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকায় নতুন সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক নীতি আঞ্চলিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বৈদেশিক সম্পর্কেও পরিমিত ও কৌশলী পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে। তারেক রহমানের শপথের মাধ্যমে যে নতুন অধ্যায় শুরু হলো, তা কতটা স্থায়ী ও কার্যকর হবে—সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী দিনের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে। তবে এটুকু নিশ্চিত, বাংলাদেশের রাজনীতি আবারও প্রমাণ করল—এখানে নাটকীয়তা কখনও ফুরোয় না।


